মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন

স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণে এবার হাতি কিনলেন দুলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রতিঘর দেউতিগ্রামের কৃষক দুলাল চন্দ্র। তুলসী রাণীর সঙ্গে কুড়ি বছরের সংসার তার। তুলসীর প্রতি ভালোবাসার কমতি নেই কৃষক দুলালের। এবার স্ত্রীর ইচ্ছা পূরণ করতে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে আনলেন হাতি।

দুলালের ৪ বিঘা জমি ছিল। এক বিঘা বিক্রি করে কিনেছিলেন ঘোড়া। এবার আড়াই বিঘা জমি আর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে মৌলভীবাজার থেকে কিনে আনলেন হাতি। আর হাতি পরিচালনার জন্য একজন মাহুত ভাড়ায় রেখেছেন। প্রতিমাসে মাহুতের বেতন দিতে হবে ১৫ হাজার টাকা। হাতিটি প্রতিদিন খাচ্ছে ১০-১২টি কলাগাছ, ভুষি, গুড় আর কয়েক কাঁদি কলা।

এই আয়োজন দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। জড়ো হয়ে দেখছেন হাতি। কখনো হাতি হাঁটলে পিছন পিছন ছুটছেন ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ।

পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ জানালেন, দুলাল দীর্ঘদিন থেকে এগুলো করছেন। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি এটা করেন না। এর আগেও পাখি, গাঁধা, ঘোড়া কিনেছেন। এক বছর থেকে হাতি কেনার জন্য ঘুরছেন। বন বিভাগের লাইসেন্স পাওয়ার পর ৫-৭ দিন আগে হাতিটি কিনে এনেছেন।

পঞ্জগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাতি কেনার একদিন পর দুলালকে ডেকে কথা বলেছি। দুলাল তখন আমাকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী তুলসীর বিশ্বাস ঠাকুর তার কাছে হাতি চেয়েছেন। দুলাল প্রথমে স্ত্রীর কথা বিশ্বাস করেননি। তারপর দুলালকেও নাকি স্বপ্নে নির্দেশ দিয়েছেন। কিছুদিন হাতি না কেনায় তুলসী এবং দুলালের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়। তখন তুলসী খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।’

কৃষক দুলাল চন্দ্রও জানালেন হাতি কেনার পিছনের গল্প। তিনি বলেন, ‘গেলো ১০ বছর থেকে তুলসীর শরীরে কালিমাতা ভর করে আসছেন। কয়েক মাস থেকে পরমেশ্বর আমার স্ত্রীকে এবং আমাকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন একটি হাতি কিনে আনার জন্য। তাই হাতি কিনতে হলো।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com